স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ বিষয়ক প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও পাবলিক হেলথ এনালিস্ট)
ঢাকা, ৫ এপ্রিল ২০২৬: দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৮টি জেলার ৩০টি বিশেষায়িত হটস্পটে শুরু হয়েছে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঢাকার নবাবগঞ্জে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
স্বাস্থ্য বিভাগ দেশের ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভাকে হামের সংক্রমণের হারের ওপর ভিত্তি করে চিহ্নিত করেছে।
সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ: তালিকায় সবার উপরে রয়েছে বরগুনা সদর ও পৌরসভা। এছাড়া পাবনা, চাঁদপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের একাধিক উপজেলাকে রেড-জোন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ: মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, ঝালকাঠি, শরীয়তপুর এবং ঢাকার নবাবগঞ্জে সংক্রমণ তুলনামূলক কম হলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে টিকাদান শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এক বিশেষ নির্দেশনায় জানিয়েছেন:
যেসব শিশু ইতিমধ্যে হাম বা জ্বরে আক্রান্ত রয়েছে, তাদের এখনই এই টিকা দেওয়া হবে না। তাদের সুস্থ হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলাতেও সম্প্রসারণ করা হবে।
১৮টি জেলার ৩০টি নির্বাচিত এলাকাগুলো হলো:
বরগুনা: সদর ও পৌরসভা।
পাবনা: সদর, পৌরসভা, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, বেড়া।
চাঁদপুর: সদর, পৌরসভা, হাইমচর।
কক্সবাজার: মহেশখালী, রামু।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সদর, পৌরসভা, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট।
অন্যান্য জেলা: গাজীপুর সদর, নেত্রকোনা (আটপাড়া), ময়মনসিংহ (সদর, ত্রিশাল, তারাকান্দা, শ্রীনগর), রাজশাহী (গোদাগাড়ী), বরিশাল (মেহেন্দীগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ), নওগাঁ (পোরশা), যশোর সদর ও পৌরসভা, নাটোর সদর, মুন্সীগঞ্জ সদর ও পৌরসভা, লৌহজং, মাদারীপুর সদর ও পৌরসভা, ঢাকা (নবাবগঞ্জ), ঝালকাঠি (নলছিটি) এবং শরীয়তপুর (জাজিরা)।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়ই সকল অভিভাবককে তাঁদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা সঠিক সময়ে টিকা না দিলে শিশুদের নিউমোনিয়া বা চোখের সমস্যার মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: বর্তমানে যখন বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে, তখন দেশের অভ্যন্তরে এ ধরনের সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বরগুনার মতো হটস্পটগুলোতে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। এবি পার্টির পক্ষ থেকে গতকালই ফেনীতে হামের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল; সেই প্রেক্ষাপটে এই টিকাদান কর্মসূচি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ আনতে সহায়ক হবে। তবে মনে রাখতে হবে, টিকার পাশাপাশি জনসচেতনতা ও আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে রাখাও অত্যন্ত জরুরি।
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ |
| টার্গেট গ্রুপ | ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সি শিশু। |
| ভৌগোলিক এলাকা | ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা/পৌরসভা। |
| সর্বোচ্চ আক্রান্ত এলাকা | বরগুনা সদর ও পৌরসভা। |
| সতর্কতা | জ্বর বা হামে আক্রান্ত শিশুকে এখন টিকা দেওয়া যাবে না। |
| উদ্বোধন | নবাবগঞ্জ, ঢাকা (৫ এপ্রিল, সকাল ৯:০০ টা)। |
১. স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়: ৫ এপ্রিল ২০২৬-এর প্রেস ব্রিফিং ও টিকাদান গাইডলাইন। ২. স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS): হটস্পট চিহ্নিতকরণ ও জেলাভিত্তিক আক্রান্তের পরিসংখ্যান। ৩. বিডিএস হেলথ ডেস্ক: হামের সংক্রমণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদন ২০২৬।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |